কুড়িগ্রাম শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:২৪ পিএম

শিরোনাম
  ছয়মাস থেকে পলিথিনের নীচে বসবাস ছালমা বেগমের       উলিপুরে PSDO এর বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন       কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় অনিশ্চিত আমন আবাদ, খাল খননের দাবী       আমন চারার সংকটে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা       বন্যার্তদের পাশে রাশিদা আওয়াল ফাউন্ডেশন       ভূরুঙ্গামারীতে রাস্তা থেকে কেটে নেয়া গাছ উদ্ধার       ভুরুঙ্গামারী হাসপাতালে সেনাবাহিনীর করোনা উপকরণ সামগ্রী হস্তান্তর       চিলমারীকে দীর্ঘমেয়াদী বন্যার কবল থেকে রক্ষার্থে মানববন্ধন       ভূরুঙ্গামারীতে “নো মাস্ক নো ট্রাভেল” ক্যাম্পেইন       সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে “ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সংস্থা”    
 

অর্ধেক রাইতোত উঠি দেখি আইগন্যার মাঝত ফাটল ধরছে

প্রকাশিত সময়: জুলাই, ২১, ২০২০, ০৮:০৯ অপরাহ্ণ  

 
 

নুসরাত জাহান:

“সোউগ ঠিক দেখি নিন্দ আসছিনং, অর্ধেক রাইতোত উঠি দেখি আইগন্যার মাঝত ফাটল ধরছে। রাইত ১২টার সময় তারাহুরা করি কোনরকমে জিনিসপত্র নিয়্যা সরি আসছি। হামার যাওয়ার যায়গা নাই, মাদ্রাসা বন্ধ জন্যে মাদ্রাসার একটা ঘরত জিনিসপত্র থুইছি।” এভাবেই বলেছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের গাবুরহেলানের মান্নান মিয়ার স্ত্রী। ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারিয়ে আপাতত গাবুরহেলান মাদ্রাসার একটি কক্ষে পরিবার সহ আশ্রয় নিয়েছেন মান্নান মিয়া। যেকোন মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে বিধায় ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছিলেন পার্শবর্তী আবুল হোসেনের পরিবাব। বলছিলেন “হামরা এ্যালা কোটে যামো বাহে!”একই এলাকার রোকেয়া বেগম, ঘুরে ঘুরে বর্ণনা করছিলেন কিভাবে কয়েকদিনের মধ্যেই কয়েকটি পরিবারকে ভিটেমাটি ছাড়া করে দিয়েছে এই নদী।

“মা রে, এই নদী হামার সোউগ শ্যাষ করি দেইল” সর্বগ্রাসী তিস্তার দিকে তাকিয়ে এ ভাবেই উদাসী ভঙ্গিতে বলছিলেন একই উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িরহাটের বাসিন্দা শরীফা বেগম। ৬ দিন আগে নিজের বাড়ী ভেঙে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন, জিনিসপত্র রেখেছেন অন্যের বাসায়। শীর্ণ দেহে মেয়ে সহ ভাঙা বাড়ীর ইট গুলো সরিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। শরীফা বেগমের বিধ্বস্ত চেহারাই বলে দিচ্ছিল নদীর কাছে কতটা অসহায়। মঙ্গলবার সরেজমিনে তীস্তার তীরবর্তী মানুষের এমন দুর্দশার চিত্র দেখা যায়।

ভাঙছে তিস্তা ভাঙছে স্বপ্ন, ভাঙন কবলিত মানুষের জীবন সংগ্রাম হয়ে উঠছে আরও তীব্র। প্রতিবছর এমনি করে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃশ্ব হয়ে যাচ্ছে তিস্তাপারের শতশত পরিবার। কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িরহাট ক্রোসবাঁধের সংযোগ সরকটি ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অপরদিকে ভাঙনের মুখে একই উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের গাবুরহেলান বাঁধটিও। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি বস্তা ফেলে আপাতত ভাঙন ঠেকানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এই বাধঁ দুটি ধ্বংস হয়েগেলে হুমকির মুখে পড়বে দুই ইউনিয়নের শত শত পরিবার।

মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম-২ আসলের সাংসদ পনির উদ্দিন ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন ” আমরা এমনিতেই করোনা মহামারীর কারনে সংকটাপন্ন সময় অতিবাহিত করছি, তার উপর বন্যা এবং নদী ভাঙন এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। সাময়িক ভাবে জিও বস্তা ফেলে পরিস্থিতি মোকাবেলার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।” পরবর্তীতে নদী শাষনে আরও দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহনের আশ্বাস দেন তিনি।


ট্যাগঃ

   
 
আরও পড়ুন
 
 
Top