কুড়িগ্রাম শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৪৮ পিএম

শিরোনাম
  ছয়মাস থেকে পলিথিনের নীচে বসবাস ছালমা বেগমের       উলিপুরে PSDO এর বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন       কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় অনিশ্চিত আমন আবাদ, খাল খননের দাবী       আমন চারার সংকটে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা       বন্যার্তদের পাশে রাশিদা আওয়াল ফাউন্ডেশন       ভূরুঙ্গামারীতে রাস্তা থেকে কেটে নেয়া গাছ উদ্ধার       ভুরুঙ্গামারী হাসপাতালে সেনাবাহিনীর করোনা উপকরণ সামগ্রী হস্তান্তর       চিলমারীকে দীর্ঘমেয়াদী বন্যার কবল থেকে রক্ষার্থে মানববন্ধন       ভূরুঙ্গামারীতে “নো মাস্ক নো ট্রাভেল” ক্যাম্পেইন       সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে “ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সংস্থা”    
 

মানবিক পুলিশ সুপার

প্রকাশিত সময়: জুন, ২৪, ২০২০, ০১:০৪ অপরাহ্ণ  

 
 

 

তামজিদ হাসান তুরাগ:

প্রথমেই একটা গল্প বলি, গল্পের শুরুটা একটু অন্যরকম, পারস্যের কোন এক রাজ্যে আইনের শাসন ছিলো কিন্তু শাসকরা ছিলো জনতা থেকে দূরে ফলেই ব্যহত হতো যথাযথ জনসেবা। নায়েবরাই কখনও কখনও মূখ্য শাসক হয়ে যেত সেখানে। অবস্থার পরিবর্তন হলো সময়ের সাথে সাথেই। আসল এক নতুন যুবরাজ হলো জনবাবন্ধব। ঘুরে দেখলো তার শাসন অঞ্চলের সীমানাগুলো। খুললো রাজ দরবারের দরজা সেখানে প্রবেশের অধিকার পেলো ফকির থেকে রাজা, ধনী থেকে গরীব। নির্যাতিতরাও পেলো মাথা গোজার ঠাই। সে রাজ্যের শাসক শাষিত মধ্যে হলো এক মানবিক সম্পর্ক। সেভাবেই চলছে সে রাজ্যের শাসন।

এবার আসি মূল প্রসঙ্গে এতোক্ষণ আপনারা যে গল্পটি শুনলেন তার কেন্দ্রীয় চরিত্র্যের সাথে খানিকটা মিল পাওয়া যায়। কলামের হেড লাইনের ব্যক্তিটির। তিনি মহিবুল ইসলাম খান উপমায় আমার চোখে সেই জনবান্ধন যুবরাজ। তিনি এখন দায়িত্বে আছেন কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার হিসেবে।
এবার আসি মূলপ্রসঙ্গের দ্বারে ২০১৯ সালের জুন মাসের কথা প্রজ্ঞাপনে দেখলাম কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিসিসি)র একজন উপ-পুলিশ কমিশনার দায়িত্ব পেয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের। দেরি না করে সাক্ষাৎ করতে গেলাম মিন্টোরোডের কার্যালয়ে। হাস্যউজ্জল মানুষটির আতিথিয়তায় কম করলেনা। জানলেন কুড়িগ্রাম বিষয়ে। সেই থেকে পরিচয়। ফেসবুকে যুক্ত হওয়ার পরেই দেখলাম তার একটি পোস্ট লিখলেন তার ভাবার্থ এমনটা দাড়ায় যে, সুযোগ এসেছে এবার দরিদ্র মানুষের কাছে গিয়ে সেবা করার। এই পোস্টের উত্তর আমি দিব না দিবেন আপনারাই।
২৩শে জুন তিনি দায়িত্ব নিলেন কুড়িগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে। নতুন পরিবেশ নতুন জায়গা কিছু বোঝার আগেই আসলো তার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। আর তা হলো পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষা। একটু বলে রাখি নিয়োগ বাণিজ্য এ দেশের একটি চিরাচায়িত অভ্যাস। এ খোলসের অনেককাংশ থাকে চাকরিপ্রার্থীদের অগ্রাধিকার। না এই নিয়োগে নিয়োগ বাণিজ্য হয় নি। যার পেছনে ছিলো ব্যপক প্রচার-প্রচারণা যাতে কেউ অনিয়ম করতে না পারে। নিয়োগ পরীক্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার ছিলো তীক্ষ্ণনজর। তিনি ১০৩ টাকায় ৩৩ জনকে চাকুরি দিয়েই গড়লেন নজির। কুড়িগ্রামে মানুষেরা বলা শুরু করলো ‘ এলা টেকা ছাড়াও পুলিশের চাকরি হয় বাহে’। এ সুষ্ঠ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসুষ্ঠ করার চেষ্ঠায় নিজ বাহিনীর দু জনকে বদলিও করলেন তিনি। যা একেবারেই নজিরবহীন ঘটনা ছিলো কুড়িগ্রামের জন্য।
নব্যনিযুক্ত এসপি সাহেব ঘুরলেন তার জেলার ১১ টি উপজেলায় নদী,চর মানুষের অভাব দেখলেন খুব কাছ থেকে। মূলত এটিই ছিলো তার জনবান্ধন প্রথম ধাপ। ঘোষণা দিলেন মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ার। তার সেই প্রত্যয়ে ছড়িয়ে দিলেন নিজের ফোন নম্বর আর বানালেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে বার্তা দেয়ার জন্য একখানা ফেসবুক পেজ। এটি ছিলো তার জনবান্ধব অথবা জনতার এসপি হওয়ায় দ্বিতীয় ধাপ। যদিও তিনি চেয়েছেন কাছ থেকে মানুষের সেবা করতে সুনাম কামাতে নয়।


দায়িত্ব পালন করছে মানুষকে সচেতন করছে, নিরাপত্তার জন্য প্রথমে তিনি বসালেন নিরাপত্তা চৌকি (চেকপোস্ট) ২৪ ঘন্টা যেখানে থাকে পুলিশ পাহাড়া। থানায় রোল কল, পিটিপ্যারেড নিজেও করলেন করা তার বাহিনীকে। এরি মধ্যে তার ফোনে আসা শুরু করলো বার্তা নান অনিয়মের অভিযোগ। কখনও নিজে আবার কখনও বাহিনীকে দিয়ে করলেন সমস্যার সমাধান। লোকজন বলা শুরু করলো ‘এসপি স্যার মেলা ভাল মানুষ, মোর কাম কোনা করি দিছে’।

অজানা গ্রাম থেকে কল আসলো তার কাছে। ওপার থেকে কাঁপা কন্ঠে স্যার আমার গ্রামে একটা মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েকে বেঁধে রাখা হয়েছে কিছু করেন স্যার। ছুটে গেলেন এসপি শিকল থেকে মুক্ত করলেন শিশুটিকে দায়িত্ব নিলেন তার চিকিৎসার। চিকিৎসাও চললো কিছু দিন তবে বাঁচানো গেলো না শিশুটিকে। তিনি শুনলেন গ্রামে এক বিশেষায়িত শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে চলে গেলেন তিনি আদর করে শিশুদের দিলেন উপহার। অনেকে তাকে বললেন মানবিক এসপি।
এবার বলি এক শুক্রবারের কথা চরের কোনো একগ্রাম এক বৃদ্ধা বাড়ির পালিত চড়াই (মুরগি) আর কিছু ডিম নিয়ে উপস্থিত হলেন এক যুবরাজের বাড়িতে। প্রবেশের বাঁধা পেলেন না । কথা বললেন সেই যুবরাজের সাথে কল্পিত রাজ দরবারে পেলেন আতিথিয়তা সেরে নিলেন দুপুরের খাবার ও সেই রাজ দরবারে। পাঠক আপনাদের দায়িত্ব সেই যুবরাজের পরিচয় খুঁজে বের করা।
করোন ভাইরাস আসল দেশে এবার তার সামনে আরেক নতুন চ্যালেঞ্জ। ঘরে ঘরে আকঙ্ক। সন্ধ্যার পর বাহিরে না থাকার হুলিয়া জারি হলো সরকার থেকে ঘরে থাকুন নিরাপদে থাকুন। না তিনি আপনাদের স্বার্থে ঘরে থাকলেন না সন্ধ্যার পর জনসমাগম না করতে নামলেন রাস্তায়। ফোনে বার্তা পেয়ে গোপনে মধ্যবিত্তের ঘরে পৌছে দিল খাবার। পাশাপাশি তার ফেসবুক পেজে প্রতিদিন দিতে লাগলেন সচেতনতার বার্তা। ঘরমুখো মানুষের চাপ বড় চাপ তা হাড়ে হাড়ে বুজলেন তিনি দায়িত্ব নিয়ে করা হলো বাড়ি লকডাউন। পথে পথে আরও নিরাপত্তা চৌকি।

বাসভাড়া বেশি নেওয়ায় দিলেন কড়া সতর্কতা ফিরিয়ে দিলেন অতিরিক্ত আদায় করা ভাড়া। নিজের বাহিনীর দিকে রাখলেন নজর, উপহার দিলেন আম। পুলিশকে আরও জনবান্ধন করতে চালু করলেন বিটপুলিশিং। তবুও তিনি খান্ত নন খোঁজ নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত সবার সামাজিক মাধ্যমে। বারবার বলছেন অনিয়ম মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা। চাইছেন আপনাদের কাছেই সুনির্দিষ্ট তথ্য। নিজ বাহিনীর ক্ষেত্রেরও আদর্শের মানদন্ডে তিনি অবিচল। হয়েছেন জনবান্ধন জনতার পুলিশ সুপার।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী


ট্যাগঃ

   
 
আরও পড়ুন
 
 
Top