কুড়িগ্রাম রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৪:৪৭ এএম

 

তরুনদের উদ্যোগ কি থেমে যাবে!

প্রকাশিত সময়: জুলাই, ১২, ২০২১, ০৯:১৯ অপরাহ্ণ  

 
 

ডেস্ক রিপোর্ট:
করোনা কালে কিছু তরুন ধরলা নদীর পাড়ে অব্যবহ্নিত একটি জায়গায় বাঁশের কারুকাজ করা ছোট রেষ্টুরেন্ট তৈরীর উদ্যোগ নেয়। কাজ প্রায় শেষের দিকে সেটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে জানান হয়। অথচ এটি সড়ক থেকে প্রায় দেড় শত ফুট দুরে। একটি খালের উপর। যেখানে রাত দিন মাদক সেবীদের আড্ডা বসে। অপর দিকে সড়কের পাশে বিট পুলিশের একটি পাকা ঘড় নিমার্ন হচ্ছে। সেখানে কোন বাঁধা দেয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানায় সন্ধ্যার পর ধরলা সেতুর বাতি গুলো জ্বলে না। ভূতরে অবস্থা বিরাজ করছে। সেদিকে তাদের খেয়াল নেই।

উদ্যোগতারা জানায় করোনা কালে আমরা কয়েকজন তরুন ভাবতে থাকি কিছু একটা করতে হবে। তা না হলে আর চলছে না। সবার পারিবারিক অবস্থা তেমন ভাল না। চাকুরি নাই। যে করেই হউক কাজ বের করতে হবে। প্রতিদিন সবাই ধরলা নদীর পূর্ব পাড়ে গ্রোইংয়ে বসে পরার্মশ করি। কি করা যায়। কিন্তু কোন পথ পাই না। গত জুন মাসে বিকেলে হঠাৎ একজন বলে বসেন ধরলার পাড়ে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী ও ভ্রমন পিপাসু মানুষ আসে। তাদের বসার বা খাবার ভাল জায়গা নেই। এখানে আমরা একটি রেষ্টুরেন্ট দিলে কেমন হয়। কথাটি সবার পছন্দ নয়। কিন্তু সমস্যা হলো জায়গা পাবে কোথায়। এদের মধ্যে আহাম্মেদ মোস্তাইন ও রাব্বী ইসলাম নামে দুই তরুন উদ্যোগতা জানায় আমরা যেখানে বসে গল্প করি তার সামনে ধরলা নদী, মাঝে গ্রোইংন ( নদীর তীর রক্ষা বাঁধ) পিছনে একটি পরিত্যাক্ত জায়গা। দীর্ঘ দিন থেকে পড়ে আছে। ডোবা বা খালের মত। শুকনৌ মৌসুমে অগাছায় ভড়ে যায়। বষার্য় পানি থাকে। পোকা মাকড়ের ভয়ে অনেকে গ্রোইংনে বসতে চায় না। সবাই সিদ্ধান্ত নেয় আগাছা পরিস্কার করে খুব কম টাকায় বাঁশ দিয়ে রেষ্টুরেন্ট বানাব। পাকা বা কংক্রিটের কিছু হবে না। রেষ্টুরেন্টের নাম ঠিক হয় খড়কুট। ঘড়টি বাঁশের খুটি দিয়ে মাটি থেকে উঁচু করা হবে। পাটাতন কাঠের। চারপাশ বাঁশ এবং কাবাড়ি দিয়ে ঘেড়া থাকবে। উপরে টিনের দোচালা। খুব কম টাকায় বাঁশের রেষ্টুরেন্ট। রান্না, গ্রাহক সেবা নিজেরাই করবো। এতে খরচ বেঁচে যাবে। আমরা মোট ৯জন বন্ধু। এর মধ্যে অধিকাংশই নিন্ম মধ্যবিত্ত ঘড়ের সন্তান। সবাই সমান টাকা দিতে পারেনি। বন্ধু বিধায় সবার সহযোগীতায় গত জুন মাসের প্রথমে কাজ শুরু করি। জুনের শেষে ঘড়ের নান্দনিক সৌন্দয্য প্রকাশ পেতে থাকে। আর শহর ও দুর’দুরান্ত থেকে মানুষ এসে দেখে প্রশংসা করেন। এতে উৎসাহ বাড়ে। আরও ভাল করার জন্য চেষ্টা করতে থাকি। উদ্দেশ্য নতুন কিছু করা। দলের রাকিবুল হাসান ও মঞ্জুরুল ইসলাম জানায় এ জায়গাটি সন্ধ্যার পর অন্ধকার থাকে। মাদক সেবীরা বসে নেশা করে। আলোকিত করার জন্য সামনে বাতি লাগানো হয়। জুলাই মাসে ঘড়ের কাজ প্রায় শেষ। হঠাৎ সড়ক জনপদের লোকজন উপস্থিত হয়ে বলেন এটি আমাদের জায়গা ঘড় তুলেছেন কেন। চার দিনের মধ্যে ভেঙ্গে ফেলতে হবে। আমাদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। স্বপ্ন ধুলিশ্বাত হয়ে যায়। চোখে শরষে ফুল দেখতে থাকি। মুখ দিয়ে কথা বের হতে চায় না। কোন উত্তর বের হতে চায় না। তবুও বোঝাতে চেষ্টা করি আমরা বেকার। অল্প বয়স। করোনা সময় কিছু একটা করার চিন্তা থেকে এটি শুরু করি। ছোট বেলা থেকে দেখছি পড়ে আছে। সে কারনে একটা স্বপ্ন নিয়ে শুরু করি। আমরা অঙ্গিকার বদ্ধ সরকারের যে কোন প্রয়োজনে সরে যাব। লিখিত দেব। তবুও তারা মানে না। ভেঙ্গে দেয়ার শেষ সিমা বেঁধে দিয়েছে ১৪ জুন। মাইকিং করেন। ভেঙ্গে না দেয়ার জন্য তাদের অনুরোধ করি কিছুতেই মানছে না।

এ বিষয়ে প্রাক্তন শিক্ষক, প্রবীন নাগরিক সামিউল হক, মো. শাহাবুদ্দিন আহাম্মেদ ও কলেজ শিক্ষক রুকুনদ্দৌলা কল্লোলসহ একাধিক মানুষ তরুনদের এ ব্যতিক্রমি কাজ ও উদ্যোগ দেখে বলেন এটি অসাধারন পরিকল্পনা। প্রশাসনের উচিত বাচ্চাদের পাশে দাঁড়ান। তা না করে ভেঙ্গে দেয়ার কথা বলা ঠিক না। আমরা দেখছি ঐ সড়কের পাশে বিট পুলিশের পাকা ঘড় উঠছে, বিজিবির চেক পোষ্ট, সড়ক বিভাগ ও প্রশাসন সেটি না দেখে তরুনের স্বপ্ন ভাঙ্গন নেমেছে। এটা ঠিক না।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানায় এখান থেকে সরে যেতে হবে। আমি নীতি মালার বাইরে যেতে পারবো না। সড়কের সাথেই বিট পুলিশের পাকা ঘড় হচ্ছে এর উত্তরে জানায় তাদের বলেছি প্রয়োজনে সরে যাবে।


ট্যাগঃ

   
 
আরও পড়ুন
 
 
Top