কুড়িগ্রাম শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:২১ পিএম

শিরোনাম
  ছয়মাস থেকে পলিথিনের নীচে বসবাস ছালমা বেগমের       উলিপুরে PSDO এর বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন       কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় অনিশ্চিত আমন আবাদ, খাল খননের দাবী       আমন চারার সংকটে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা       বন্যার্তদের পাশে রাশিদা আওয়াল ফাউন্ডেশন       ভূরুঙ্গামারীতে রাস্তা থেকে কেটে নেয়া গাছ উদ্ধার       ভুরুঙ্গামারী হাসপাতালে সেনাবাহিনীর করোনা উপকরণ সামগ্রী হস্তান্তর       চিলমারীকে দীর্ঘমেয়াদী বন্যার কবল থেকে রক্ষার্থে মানববন্ধন       ভূরুঙ্গামারীতে “নো মাস্ক নো ট্রাভেল” ক্যাম্পেইন       সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে “ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সংস্থা”    
 

কুড়িগ্রামে উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে চরাঞ্চলের ধান ডুবে গেছে

প্রকাশিত সময়: মে, ৩০, ২০২০, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ  

 
 

প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অতি বৃষ্টিতে চারঞ্চলের অধিকাংশ নিচু জমির ধান, পাটসহ অন্যান্য ফসল ডুবে গেছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা আধাপাকা ধান কেটে নিচ্ছে।

শনিবার সকালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের ধুধকুমার নদের পূর্ব পারে প্রথম আলো চরে গিয়ে দেখা যায় কোমর পানিতে ধান কাটছে সামছুল হক। বাড়ী কুড়িগ্রাম প্রথম আলো চরে। কৃষি শ্রমিক হিসাবে কাজ করে জেলার বাইরে। তিনি বলেন অনেক কষ্টে ট্যাকা জমে এক বিঘা জমি আদি নিয়া বোর আবাদ করি। ফলন ভাল হইছে। সউগ ঢুবি দিল। বাড়ী বউ ছাওয়া পাওয়াসহ সারা দিন ধান কাটি। পানির ধান খুব ওজন। নিয়া আসা যায় না।

শনিবার সকালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের দুধকুমার নদের পূর্ব পারে প্রথম আলো চর, চর রাউলিয়া, রসুলপুর, যাত্রাপুর ইউনিয়নের রলাকাটা, খাসের চর, গোয়ালপুরি, উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের আইরমারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের ব্যাপারির চর, চর কাফনা, কালিগঞ্জ ইউনিয়নের কাঠগিরাই চরে গিয়ে দেখা যায় ধানের জমি গুলো পানি উঠেছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যরা মিলে একবুক ও এক কোমর পানিতে নেমে কাঁচা পাকা ধান গুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

রাউলিয়ার চলের মোশারফ হোসেন ছোট ডিংগি নৌকা দিয়ে ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন সর্বনাশ হয়া গেল ভাই। ধান কেবল পাকপার ধরছিল। ফলন খুব ভাল হইছিল। ডুবি গেইছে। এগলা ধান থাকি চাউল হবে না। চিটা হবে। কাটি নিয়া যাবার নাগছি গরুক খাওয়ামো। ব্রক্ষপুত্র নদের অববাহিকায় চর গোয়ালপুর, রলাকাট খাসের চরে গিয়ে দেখা যায় ব্রক্ষপুত্র ভারত থেকে এই এলাকা দিয়ে প্রবেশ করেছি। নদ ফুলে ফেপে উঠেছে। গোয়ালপুরি চরের জেলে মো. আলম জানায় নদী মাছ মারি কোন রকমে সংসার চালাই। দেড় বিঘা জমিতে বোর ধান ২৯ লাগাই। সব ডুবে গেছে। রলাকাটার কৃষক আনছার আলী ও আ. রহমান বলেন চরাঞ্চলে জমিতে বোর ধার দেরিতে লাগান হয়। কাটা হয় সবার শ্যাষে। কোনবার এই সময় এমন পানি দেখি নাই। পাট, সবজী ঢুবে গেছে।

নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ব্যাপারীর চরের মিজানুর রহমান বলেন চরের ৯৫ ভাগ মানুষ দিন মজুর, জেলে। করোনার সময় সগাই বাড়ীতে বসে। কাম নাই। কষ্টে আছে। এর মধ্যে ঝড় শিলা বৃষ্টি ফসলের ক্ষতি করে গেল। এখন আসছে পানি। ধান ডুবায় দিল। কেউ দেখপার আসলো না চরের মানুষের কষ্ট গো ভাই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা ও ডিডি খামার বাড়ী ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানায় চরাঞ্চলের মানুষ দেরীতে ধান কাটে। তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি।


ট্যাগঃ

   
 
আরও পড়ুন
 
 
Top