কুড়িগ্রাম শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ০৮:১০ এএম

শিরোনাম
  ফুলবাড়ীতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ       নিম্নমানের কাজ করায় স্কুল ভবনের ড্রপ ওয়াল ভেঙ্গে দিলেন প্রশাসন       বিএসএফ’র গুলিতে আহত ভারতীয় কিশোর কুড়িগ্রামে চিকিৎসাধীন       কুড়িগ্রামে লকডাউনে বিপাকে শ্রমজীবী       কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে শিশু ধর্ষণের চেষ্টা, থানায় মামলা       কুড়িগ্রামে চোরাকারবারীর হাতে ভারতীয় বিএসএফ আহত, সীমান্তে পতাকা বৈঠক       চিলমারী আ’লীগ কার্যালয় ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন       কুড়িগ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মানতে মাঠে জেলা প্রশাসন       চিলমারীতে বিনামূল্যে পিপিআর রোগের টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন       কুড়িগ্রামে কুখ্যাত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার    
 

কুড়িগ্রামে অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধে চাকুরী প্রার্থীর আর্তনাদ

প্রকাশিত সময়: জানুয়ারি, ২৩, ২০২১, ০৫:৪৬ অপরাহ্ণ  

 
 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নুরনবী হলোখানা বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ নুরনবী সরকার ওরফে হিরোইন নুরনবী অর্থের বিনিময়ে গোপনে নিয়োগ দেয়ার দুর্বিসন্ধি থেমে নেই। চাকুরী প্রার্থী অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন এবং গোয়ান্দা বিভাগ সহ নানা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পায় নাই। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মর্মে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন চাকুরী প্রার্থী মোছাঃ কাকলী বেগম।

অভিযোগে জানা যায়, গত ২১.০১.২০২১ইং গোপনে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার পাঁয়তারা করে উক্ত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরনবী সরকার ওরফে হিরোইন নুরনবী এবং প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম। বিষয়টি জানতে পেয়ে সাংবাদিকদের একটি টিমকে নিয়ে চাকুরী প্রার্থী মোছাঃ কাকলী বেগম কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা পারভীনকে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন-এই নিয়োগ পরীক্ষার ব্যাপারে অভিযোগ থাকায় পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ সময় চাকুরী প্রার্থী মোছাঃ কাকলী বেগমের সঙ্গে থাকা ইউনাইটেড প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম নুরনবী হলোখানা বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলামকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন-নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। যদি কিছু না-ই জানেন তবে আপনি এখানে কি জন্য এসেছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন- আমি আমার মেয়ের ভর্তি সক্রান্ত কাজে এই স্কুলে এসেছি। সাংবাদিকরা কিছুক্ষণের জন্য সরে পড়লে পরক্ষণেই প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম এবং উক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি নুরনবী সরকার ওরফে হিরোইন নুরনবী অপর চাকুরী প্রার্থী শরিফুল ইসলাম সহ ৪জন পরীক্ষার্থী সহ উপস্থিত হন। এ সময় সাংবাদিকদের ফের আকস্মিক উপস্থিতি টের পেয়ে কেউ কিছু বুঝে উঠের আগেই তারা সটকে পড়ে।

চাকুরী প্রার্থী মোছাঃ কাকলী বেগমকে গত ২৬.১০.২০১৯ইং তারিখ সকাল ১০:৩০ মিনিটে কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং ২১.০৯.২০২০ইং তারিখ সকাল ১০টায় দু’দফায় পর পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রবেশপত্র দেয়া হয়। যার প্রবেশপত্র নং-০৬। কিন্তু পরীক্ষার দিন নির্ধারিত থাকলেও অদৃশ্য কারণে পরীক্ষা হয়নি।

সর্বশেষ ২১.০১.২০২১ইং তারিখ গোপনে মোছাঃ কাকলী বেগমের নামে পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশপত্র ইস্যু না করেই ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরনবী সরকার ওরফে হিরোইন নুরনবী ও প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের মনোনীত ৪জন পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্র দেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে চাকুরী প্রার্থী মোছাঃ কাকলী বেগম বিষয়টি ওইদিন শেষ বেলায় জানতে পেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে কথা হলে চাকুরী প্রার্থী মোছাঃ কাকলী বেগম বলেন-গত ২২.০১.২০২১ইং নুরনবী হলোখানা বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ওই প্রতারক, অর্থলোভী দুষ্ট চক্রের হোতা নুরনবী সরকার ওরফে হিরোইন নুরনবী এবং প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম আবারো ব্যাকডেটে নিয়োগ কমিটির স্বাক্ষর নিয়ে সভাপতির আত্মীয়কে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। যা দুর্বিসন্ধি এবং ষড়যন্ত্রমুলক। আমি এই অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

গত ২১.০১.২০২১ইং তারিখ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে-কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জহুরুল হক জানান-আমি ওইদিন ছুটিতে ঢাকায় ছিলাম। আমি কিছুই জানি না। বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ভালো জানেন।

এব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শামছুল আলম জানান-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে আমাকে লিখিত কাগজ দেয়ার কথা ছিল। যেহেতু আমাকে জানানো হয় নাই সেহেতু ওই পরীক্ষা হয়নি। ব্যাকডেটে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন-ব্যাকডেটে নিয়োগ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি করে থাকে তাহলে তারা আইনি জটিলতায় পড়বে।


ট্যাগঃ

   
 
আরও পড়ুন
 
 
Top