কুড়িগ্রাম শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:০৪ পিএম

শিরোনাম
  ছয়মাস থেকে পলিথিনের নীচে বসবাস ছালমা বেগমের       উলিপুরে PSDO এর বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন       কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় অনিশ্চিত আমন আবাদ, খাল খননের দাবী       আমন চারার সংকটে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা       বন্যার্তদের পাশে রাশিদা আওয়াল ফাউন্ডেশন       ভূরুঙ্গামারীতে রাস্তা থেকে কেটে নেয়া গাছ উদ্ধার       ভুরুঙ্গামারী হাসপাতালে সেনাবাহিনীর করোনা উপকরণ সামগ্রী হস্তান্তর       চিলমারীকে দীর্ঘমেয়াদী বন্যার কবল থেকে রক্ষার্থে মানববন্ধন       ভূরুঙ্গামারীতে “নো মাস্ক নো ট্রাভেল” ক্যাম্পেইন       সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে “ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সংস্থা”    
 

ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্র পল্লীতে? গরীবের মরণ আগুনের পানিতে

প্রকাশিত সময়: জুন, ২৮, ২০২০, ০৮:৪৯ অপরাহ্ণ  

 
 

তামজিদ হাসান তুরাগ:

কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ কালজয়ী উপন্যাসে প্রকৃতির প্রতিকূলতা, দারিদ্রের নির্মম কশাঘাতে জেলেদের জর্জরিত জেলেদের বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক বলেছেন ‘ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্র পল্লীতে- এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।’

তবে ঈশ্বর কোথায় থাকেন তা নিয়ে কবি শেখ ফজলল করিম এর সাথে আমার মতের মিল রয়েছে। তিনি তার কবিতায় লিখেছিলেন, ‘কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর।’ অর্থ্যাৎ, তার মতে মানুষের মাধ্যেই আছে স্বর্গ-নরক আর স্বর্গে থাকে ঈশ্বর পরোক্ষভাবে বলতে গেলে মানুষের মাধ্যেই থাকে ঈশ্বর। তবে আমার মতে দুর্যোগ যখন আসে তখন তা সুর ও অসুর অর্থ্যাৎ, সবার মাঝে দিয়ে যায়।

প্রকাশিত গণমাধ্যমের তথ্যমতে গত দু’দিনে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে সুরমা নদীর পানি বেড়ে সুনামগঞ্জ শহরের কয়েকটি এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। ভারি বর্ষণ আর উজানের ঢলে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সাত নদীর পানি নয়টি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করায় বন্যার কবলে পড়েছে সাত জেলার নিম্নাঞ্চল। অপর দিকে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্রসহ উত্তরের অধিকাংশ নদীর পানি বাড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়া এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান কতৃপক্ষ।
শনিবার (২৮ জুন)সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের নদ-নদীগুলোর ১০১টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৮টি পয়েন্টে পানি বাড়ছিল। এর মধ্যে ৯টি স্টেশনে পানি বইছিল বিপৎসীমার উপর দিয়ে। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নদ-নদীগুলোর মধ্যে ধরলা কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার, তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার, বহ্মপুত্র নদ কুড়িগ্রামের নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার, যমুনা নদী গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার এবং জামালপুরের বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছিল। আর মেঘনা অববাহিকার নদ-নদীগুলোর মধ্যে সুরমা নদী সিলেটের কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে সাম্প্রতি তোলা

এছাড়া দারিদ্র পীড়িত কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে গত শুক্রবার থেকে। এই দুই নদীর অববাহিকার দুই শতাধিক চর প্লাবিত হয়ে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছে। পাট, ভুট্টা, সবজি ক্ষেত ও বীজতলা, এবং তিল, আউশ ধান ও কাউনের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। প্রশ্ন হতে পারে মরার উপর খরার ঘাঁ কেন? উত্তর একটাই এ বিধিরবাম। আমার মতো মানুষের তা বোঝার সাধ্য নেই। তবে এতোটুকু বলতে পারি প্রকৃতির সাথে অবিচার হয়েছে। প্রকৃতির উপর করা হয়েছে শাসন। প্রকৃতিকে বাধাগ্রস্থ করে করা হয়েছে অন্যায়। তাই প্রকৃতি এখন নিচ্ছে তার প্রতিশোধ আর মরছে পানিতে গরীব। এযেন এক জিন্দা লাশের গল্প জীবন থাকলেও সয়সম্বল হারিয়ে ব্ন্যার সাথে যুদ্ধ করে প্রাণ নিয়ে তারা এখন আশ্রয় কেন্দ্রে তাই বলবো ঈশ্বর তাদের পল্লীতে আছে বলেই তারা বেঁচে গেছে।
এবার আসি আরেক পল্লীর ঘটনাপ্রবাহে রাজধানীর কমলাপুরে টিটিপাড়ার হরিজন পল্লি এই পল্লির আরেকটি নাম আছে আমি ব্যবহার করতে চাই না। গান্ধীজির মতে তারা ঈশ্বরের সন্তান। আমিও তাই বলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করি। কোনো কারণ ছাড়াই সেই পল্লিতে শুক্রবার (২৬ জুন)মাঝরাতে হানা দেয় অনল। সর্বভূক আগুন খেয়ে ফেলে পল্লির ৪০টি ঘর। উপসংহার নির্মম সব হারিয়ে জীবন বাঁচিয়ে পল্লীতে কান্নার রোল।

দুই ঘটনা প্রবাহের উপসংহারে আছে ব্যথা,হতাশা আর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা। কিছু দিন বাদে চর জাগলে পানি কমলে জীবন সংগ্রামে নেমে পড়ে তারা। ঈশ্বর পাশে থাকে বলেই তা হয় সম্ভব। জীবন সংগ্রাম করতে করতে অনেকে হেরে যায় দারিদ্রতার কাছে। ভিটে মাটির খোঁজে দিশেহারা হয়েও নানা সংগ্রাম করে আবার জেগে ওঠে তারা। পরিশেষে বলি ঈশ্বর থাকে সব পল্লীতে তাকে খুঁজে নিতে হয় নিজের মত করে। আর জীবন মানেই সংগ্রাম এ সংগ্রামের শেষ কোথায় তার উত্তর সয়ং ঈশ্বরই জানেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখক এখানে তথ্যের ভিত্তিতে কলামে নিজের মতামত প্রকাশ করেছে।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী, দৈনিক দেশ রূপান্তর।


ট্যাগঃ

   
 
আরও পড়ুন
 
 
Top