কুড়িগ্রাম রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৪৬ এএম

শিরোনাম
  ছয়মাস থেকে পলিথিনের নীচে বসবাস ছালমা বেগমের       উলিপুরে PSDO এর বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন       কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় অনিশ্চিত আমন আবাদ, খাল খননের দাবী       আমন চারার সংকটে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা       বন্যার্তদের পাশে রাশিদা আওয়াল ফাউন্ডেশন       ভূরুঙ্গামারীতে রাস্তা থেকে কেটে নেয়া গাছ উদ্ধার       ভুরুঙ্গামারী হাসপাতালে সেনাবাহিনীর করোনা উপকরণ সামগ্রী হস্তান্তর       চিলমারীকে দীর্ঘমেয়াদী বন্যার কবল থেকে রক্ষার্থে মানববন্ধন       ভূরুঙ্গামারীতে “নো মাস্ক নো ট্রাভেল” ক্যাম্পেইন       সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে “ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সংস্থা”    
 

ছয়মাস থেকে পলিথিনের নীচে বসবাস ছালমা বেগমের

প্রকাশিত সময়: সেপ্টেম্বর, ১১, ২০২০, ০৯:০১ অপরাহ্ণ  

 
 

 কল্লোল রায়:  কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার পশ্চিম পাড়ে শহর রক্ষা বাধের উপরে শতাধিক ভূমিহীন পরিবারের বসবাস। প্রায় ছয় মাস আগে বাধ সংস্কারের জন্য এসব পরিবারকে উচ্ছেদ করে দেয়ার পর বাধের নীচে কোনমতে বাড়ি করে বেঁচে আছে পরিবারগুলো। কিন্তু অন্য সবার মত নতুন করে ঘর তোলা হয়নি ছালমা বেগমের(৬০)।প্রায় ছয়মাস থেকে খাটের উপরে পলিথিনের চালা করে অস্থায়ীভাবে ১৫ বছরের এক নাতি সহ সেখানেই মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তিনি।

ছালমা বেগমের এই অস্থায়ী ঝুপড়িটি কুড়িগ্রাম পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের চানমারী সওদাগর পাড়ার ১ নং টি বাধের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। প্রায় ২২ বছর থেকে এখানে বসবাস করা ছালমা বেগম বলছিলেন, ‘স্বামী মরছে ২০ বছর আগত,মুই মোর নাতিক নিয়া এটে থাকোং,মোর ভাতা কার্ডও করি দেয়নাই কায়ও’।কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি জানান, তার ১৫বছরের নাতি চায়ের দোকানে থেকে যা আয় করেন তা দিয়েই চলে সংসার। মাঝে মাঝে তিনি দুরে কাজের সন্ধানে গিয়ে কিছু উপার্জন করে আনলেও সেই অর্থের বেশিরভাগ যাতায়াতের ভাড়াতেই খরচ হয়ে যায়।

ঘর তোলার জন্য ১৫ দিন আগে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে ৮টি ঢেউটিন কিনে দিলেও বাঁশ ও কাঠ কেনার টাকা না থাকায় ঘর তুলতে পাচ্ছেন না তিনি।বৃষ্টিতে বিছানা ভিজে গেলে রাত জেগে সকালের অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় থাকেনা তার।অপরদিকে, রান্না করার জন্য নিজস্ব চুলা না থাকায় প্রতিবেশি ঝর্ণা বেগমের চুলায় কোনদিন একবেলা,কোনদিন দুবেলা রান্না করে খাচ্ছেন সালমা বেগম।খাবারের বাজারের টাকা না জুটলে প্রতিবেশির কাছে খাবার চেয়ে নিয়ে খেতে হয় বলে জানালেন এই বৃদ্ধা। তার এক প্রতিবেশি বলছিলেন,’তার খাবারের অভাব মেটানো সম্ভব হলেও তার জন্য ঘর তুলে দেয়ার সামর্থ নাই। কেউ যদি সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতো তাহলে তার কষ্ট দুর হতো।’

দুই ছেলে পরিবার সহ ঢাকায় থেকে তার(বৃদ্ধার) নিয়মিত খোঁজ না রাখাতে আক্ষেপ করা এই বৃদ্ধা একটি ঘরে থাকার স্বপ্ন দেখছেন প্রতিদিন।


ট্যাগঃ

   
 
আরও পড়ুন
 
 
Top