কুড়িগ্রাম রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৮ এএম

 

ভাংছে নদী, ভেসে নিয়ে যাচ্ছে স্বপ্ন

প্রকাশিত সময়: মে, ২৭, ২০২০, ০৯:২১ অপরাহ্ণ  

 
 

কল্লোল রায়:
নদ-নদী বেষ্টিত জেলা কুড়িগ্রামে নদী ভাঙন একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। প্রতিবছর জেলায় নদী ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনেক পরিবার। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী ভাঙনের প্রভাব বেশি দেখা যায়। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীতে ইতোমধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে নতুনভাবে এ ভাঙন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর ফলে কিছু বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং ঐ এলাকায় প্রত্যক্ষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় অর্ধশত বাড়ি। এছাড়াও আশেপাশের প্রায় শতাধিক বাড়ি, রাস্তাঘাট, মসজিদ, বাজার সহ নদীরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে।

চলতি ভাঙনে নদীগর্ভে ভিটেবাড়ি হারান মো. রুহুল আমীন। তিনি বলছিলেন, আমার বাড়ি থেকে নদী অনেক দুরে ছিলো। গতিপথ পরিবর্তন হয়ে আমার সবকিছু ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। এখন আমি বাঁধের পাশে বাড়ি করেছি। কিন্তু এখানেও নদী আসতে পারে। আমার প্রতিবেশী  আইয়ুব আলী, রফিকুল সহ অনেকের অবস্থা প্রায় একই।

এছাড়াও নদীগর্ভে ফসলের ক্ষেত হারান নুরুজ্জামান শেখ। তিনি বলছিলেন, প্রতিবছরের মতই আমি নদীর পাশের জমিতে বাদাম, পাট সহ বিভিন্ন শস্য চাষ করেছি। কিন্তু হঠাৎ নদীভাঙনে আমার প্রায় ২৫ শতাংশ জমি নদীতে চলে গেছে এবং এখনো ভাংছে। আমার প্রতিবেশী শেখ ফরিদ, সুরুজ্জামান সহ অনেকের স্বপ্নের এই ফসলের ক্ষেত নদীতে ভেসে যাচ্ছে।

নদীর এই গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভাঙনের কারন বিষয়ে নদী গবেষক নাহিদ হাসান নলেজ বলেন, নদীর এই নতুন গতিপথ প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। ১৭৮৭ সালের পূর্বে এই গতিপথে পানি প্রবাহ ছিলো। এর পরে যে গতিপথে পানি প্রবাহ ছিলো সেগুলো নিয়মিত খনন না করার ফলে সেগুলো ভরাট হয়ে তুলনামূলক উঁচু হয়ে যায়। তাই দু’শ বছরের পুরনো গতিপথ তুলনামূলক নীচু থাকায় সেদিকে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।তাই নতুন করে এ ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এর স্থায়ী সমাধান হিসেবে তিনি নদীর প্রধান গতিপথ নিয়মিত খনন করা ও অস্থায়ীভাবে দ্রুত ভাঙন রোধের জন্য বাঁধ নির্মাণের পরামর্শ দেন।

এদিকে থেতরাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী বলেন, নদীর এই নতুন গতিপথ রোধের জন্য পানিয়ালের ঘাটের প্রায় ২কি.মি. উজানে(উত্তরে) একটি কাঁচা বাঁধ ছিলো। সাম্প্রতিক বন্যায় বাঁধটি ভেঙে নতুন গতিপথে পানি এসে ভাঙন শুরু করে। আমরা বরাবরের মতই কর্তৃপক্ষের কাছে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছি।কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সাড়া পাইনি। তবে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রোকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এধরণের নদীভাঙন এলাকা চিহ্নিত করে ভাঙন রোধে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এগুলো এখন প্রকৃয়াধীন।আশা করি আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।

নদীর এই ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।


ট্যাগঃ

   
 
আরও পড়ুন
 
 
Top