কুড়িগ্রাম রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:০৮ এএম

শিরোনাম
  ছয়মাস থেকে পলিথিনের নীচে বসবাস ছালমা বেগমের       উলিপুরে PSDO এর বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন       কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় অনিশ্চিত আমন আবাদ, খাল খননের দাবী       আমন চারার সংকটে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা       বন্যার্তদের পাশে রাশিদা আওয়াল ফাউন্ডেশন       ভূরুঙ্গামারীতে রাস্তা থেকে কেটে নেয়া গাছ উদ্ধার       ভুরুঙ্গামারী হাসপাতালে সেনাবাহিনীর করোনা উপকরণ সামগ্রী হস্তান্তর       চিলমারীকে দীর্ঘমেয়াদী বন্যার কবল থেকে রক্ষার্থে মানববন্ধন       ভূরুঙ্গামারীতে “নো মাস্ক নো ট্রাভেল” ক্যাম্পেইন       সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে “ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সংস্থা”    
 

কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় অনিশ্চিত আমন আবাদ, খাল খননের দাবী

প্রকাশিত সময়: আগস্ট, ২৩, ২০২০, ০৫:৪০ অপরাহ্ণ  

 
 

কল্লোল রায়: কুড়িগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যার পর আমন মৌসুমে ধান রোপণ করা শুরু করেছেন কৃষকেরা। আমনের চারা সংকটের পাশাপাশি বিলের পানি স্বাভাবিক ভাবে অপসারণ না হওয়ায় উভয় সংকটে পরছেন কৃষকেরা। কোথাও কোথাও কৃত্রিম বাধ দিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে আমন আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকেরা।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর পৌরসভার ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মাইন্দরার বিল, দুবাছেড়ির বিল,কিলখাওয়া বিল। এই তিন বিলে মোট চাষাবাদ যোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার একর।এই বিল গুলোর প্রায় ৪০ শতাংশ জমি জলাবদ্ধতায় পরে রয়েছে।পানি বেশি হওয়ায় আমন আবাদ করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

মাইন্দরার বিল, দুবাছেড়ির বিল সহ কয়েকটি বিলের পানি নারিকেল বাড়ি গুয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাশের বুড়ি তিস্তা নদীতে গিয়ে মেশে।
কিন্তু এই খালের একাধিক যায়গায় মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বাধ দিয়ে রেখেছেন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। তাদের ইতোপূর্বে একাধিকবার মানা করা হলেও শুনছেন না বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের এক ভুক্তভোগী কৃষক সুকান্ত রায় অভিযোগ করে বলেন,দেড় একর জমি জলাবদ্ধতার কারনে আমন আবাদ করা হচ্ছেনা। জয়নাল, ৪০ শতাংশ।তিনি আরও জানান, মাইন্দরার বিলের প্রায় ৮০০ একর জমির মধ্যে ৪০০ একর জমিতে জলাবদ্ধতার কারনে আমন আবাদ করা যাচ্ছেনা। এছাড়াও, জব্বার আলীর ১২ একর এবং আব্দুল কাশেমের ৮ একর জমির অধিকাংশই আমনের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে বলে জানান তারা।

পাশের ১ নং ওয়ার্ডের দুবাছেড়ির বিলে জমি আছে মো. রাব্বানী সরকারের। তিনি বলছিলেন,আমার সেখানে ১ একর জমি আছে। জলাবদ্ধতার কারনে প্রায় ২০ বছর ধরে আমন আবাদ করা সম্ভব হচ্ছেনা। যদি একটি নালা করে দিয়ে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে বোরো ও আমন উভয় মৌসুমে আবাদ করা সম্ভব হতো।

উলিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন,স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে কৃত্রিম বাধ দিয়ে মাছ শিকার করা লোকদের প্রথমে বোঝাতে হবে।তারা যদি সেটা না মানে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এব্যাপারে উলিপুরের নতুন দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমরা সেই যায়গা গুলো পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বুড়ি তিস্তা নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আবু সাঈদ সরকার জানান, আমন আবাদের জন্য বিলের জলাবদ্ধতা রক্ষায় সকলকে একতাবদ্ধ হতে হবে।এছাড়াও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

এদিকে,পরিস্থিতি বর্ণনা করে ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন নবনিযুক্ত উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা।


ট্যাগঃ

   
 
আরও পড়ুন
 
 
Top