কুড়িগ্রাম রবিবার, ১৩ Jun ২০২১, ০৬:২২ পিএম

শিরোনাম
  Motivate Bhurungamari’র কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা       ফুলবাড়ীতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ       নিম্নমানের কাজ করায় স্কুল ভবনের ড্রপ ওয়াল ভেঙ্গে দিলেন প্রশাসন       বিএসএফ’র গুলিতে আহত ভারতীয় কিশোর কুড়িগ্রামে চিকিৎসাধীন       কুড়িগ্রামে লকডাউনে বিপাকে শ্রমজীবী       কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে শিশু ধর্ষণের চেষ্টা, থানায় মামলা       কুড়িগ্রামে চোরাকারবারীর হাতে ভারতীয় বিএসএফ আহত, সীমান্তে পতাকা বৈঠক       চিলমারী আ’লীগ কার্যালয় ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন       কুড়িগ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মানতে মাঠে জেলা প্রশাসন       চিলমারীতে বিনামূল্যে পিপিআর রোগের টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন    
 

একটি ব্যতিক্রমি উদ্যোগ প্রথম আলো চর স্কুল মাঠে সবজী চারা তৈরী করে বিতরন

প্রকাশিত সময়: অক্টোবর, ২৬, ২০২০, ০৫:৪১ অপরাহ্ণ  

 
 

জাকির হোসেন:
৬ দফা বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলার কৃষকের পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ধান পাট কালাইসহ সবজী নষ্ট হয়ে যায়। বাজারে সবজী নেই বললেই চলে। সামান্য যা পাওয়া যায় দাম চড়া। দরিদ্র চরবাসীদের কিনে খাওয়ার মত সমর্থ্য নেই বললেই চলে। চরবাসীর এই করুন অবস্থা দেখে এবং ক্ষতি পুশিয়ে নিতে একটি উদ্যোগ গ্রহন করে কুড়িগ্রাম প্রথম আলো প্রতিনিধি সফি খান ও কৃষিবিদ শাহীনুর রহমান। সহযোগীতা করেন প্রথম আলো চর পাঠশালার পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা সিদ্ধান্ত গ্রহন করে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা স্কুল মাঠে উন্নত জাতের বেগুন ও মরিচের চারা তৈরী করে তা চরবাসীর মধ্যে বিতরন করা হবে। এর আগে লাউ ও শিম এর চারা দেয়া হয়। এগুলো পেয়ে তারা সবাই খুশি।

চরের বাসিন্দা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সোবহান, সদস্য ফজলার রহমান জানায় আমাদের যে ক্ষতি হইছে তা সহজে পোষায় নেয়া সম্ভব না। সবাই খালি রিলিফ দেয়। সেগলা খায়া শ্যাষ। বন্যায় ফসল শ্যাষ। সবজীর বাজারোত আগুন। হামরা গরীব মানুষ কিনবার পাই না। করুন অবস্থাত পরছি। বিষয়টি সফি খানকে জানালে তিনি বলেন স্কুল মাঠে পরি আছে। সেখানে বেড তৈরী করে মরিচ, বেগুন এর বীজ ফেলে চারা করেন। তিনি বলেন বীজ আমি দেব। আপনারা চারা করেন। এরপর সবাই সীদ্ধান্ত নেই এক সপ্তাহের মধ্যে স্কুল মাঠের এক অংশে জমি তৈরী করে বীজ ফেলা হবে। প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জানায় তিনদিন পর তিনি রংপুর থেকে লাউ, শিম এর চারা ও মরিচ এবং বেগুনের বীজ পাঠিয়ে দেন। গত মাসে ৩শত পরিবারের মধ্যে লাউ ও শিমের চারা গুলো বিতরন ও স্কুল মাঠে মরিচ এবং বেগুনের বীজ বপন করা হয়। এতে সহযোগীতা করেন চরের বাসীন্দা সামছুল ইসলাম, মজিবর রহমান ও আকলিমা বেগম। তারা চারা দেখে শুনে রাখা, পানি দেয়া,ঘেড়া দেয়া সব করেন। বিদ্যালয়ের ৭ম এবং ৮ শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা পালা ক্রমে পাহাড়া দেয় গবাদী পশু যেন নষ্ট বা খেয়ে না ফেলে। দেখতে দেখতে চারা গুলো বড় হতে থাকে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষার্থী, শিক্ষকরা চারা তোলা হয়। শুক্রবার ৩ শতাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চরবাসীর মধ্যে সেই চারা গুলো বিতরন করা হয়।

শুক্রবার প্রথম আলো চরে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ সেপ্টেম্বর মাসে দেয়া উন্নত মানের বাড়ীতে শিম ও লাউ গাছ গুলো তরতরিয়ে বেড়ে উঠছে। ফুলে ছেয়ে গেছে। চরের বাসীন্দা লায়লা বেগম বলেন খুব ভাল চারা ভাইজান। যে ফুল আসছে খায়া বেছপার পামো। তিনি বলেন সবাই যদি আগে ভাগে এমন ব্যবস্থা নিত তবে মানুষের ভাল হতো। সমস্ত বেগম বলেন কি যে উপোকার হইছে আল্লায় জানে। চারা গুলা আগাম পাওয়ায় ভাল হইছে। ফলন আগে আসবে। ভাল দাম পাওয়া যাইবে। চারা পেয়ে শিক্ষার্থী ৮ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন নিজে চারা তৈরী করছি। বিতরন করলাম, নিলাম খুব ভাল লাগছে। চরের বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম বলেন চরের মানষের লবন আর মরিচ হইলে কিছুই নাগে না। সেই মরিচের কেজি ২৩০ ট্যাকা। হামরা কিনবার পাই। শুনছি এই চারা গুইলা ভাল। হাজারী। অনেক দিন বাঁচে। পরের বার এগলার বিচি থাকি চারা করমো।

এ প্রসঙ্গে কৃষিবিদ শাহীনুর রহমান বলেন, আমি একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করি। দীর্ঘ দিনের ইচ্ছা চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে কাজ করা। সুযোগ ছিল না। প্রথম আলো চরে পরিক্ষা মুলক শুরু করলাম। আগামীতে বড় করে করবো। আমি চাই চরের প্রতিটি বাড়ী সবজীতে ভড়ে উঠুক।

এ প্রসঙ্গে সফি খান জানায়, গত বছর বন্যার পর আমরা সবজী চারা বীজ বিতরন করেছি। এবার মনে হলো স্কুল মাঠ পড়ে আছে সেখানে চারা তৈরী করলে কেমন হয়। বিষয়টি কৃষিবিদ শাহীনুর রহমানকে জানালে তিনি বীজ চারা দিতে রাজী হয়। বাকীটা আমরা সবাই মিলে করে ফেলি। চারা পেয়ে চরবাসী খুশি।


ট্যাগঃ

   
 
আরও পড়ুন
 
 
Top